ঢাকা, সোমবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১১ বৈশাখ ১৪২৪

বঙ্গবন্ধু আমারও পিতা, আপনার পিতা, সবার পিতা : এরশাদ

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। তখন যুদ্ধে যোগ দিতে পারেননি বলে দুঃখ এখনও পান বলে জানিয়েছে তিনি। বলেছেন, এটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ। আর ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে না পারা তার দ্বিতীয় দুঃখ। আরও একটি দুঃখ নিয়ে তাকে মরতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সেটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক ঘোষণা না করতে পারা।

শনিবার রাতে জাতীয় সংসদে দেয়া বক্তৃতায় এরশাদ এ কথা বলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা শুরুর দিনটিকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনে সংসদে জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার একটি প্রস্তাব তোলেন সংসদে। এর ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এরশাদ এ কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে আগে তাকে বদলি করে পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানো হয়। তিনি ছুটিতে এসেছিলেন একবার। কিন্তু ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি ছুটি শেষে আবার পশ্চিমে যান। এরপর যুদ্ধ শুরু হয়।

পশ্চিম পাকিস্তানে যাওয়ার আগেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যায়। এরশাদ বলেন, ‘আমি ওসমানী সাহেবকে (মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি) ফোন করলাম, তাকে বললাম কী করবো? তিনি বললেন, তুমি তুমি সৈনিক, অর্ডার ফলো করো, যুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি।’

এই পর্যায়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি। প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, তাদের জন্য সব কিছু করবো।’

এরপর ক্ষমতায় এসে এরশাদ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কী কী করেছেন, তার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা বলেছিলাম, মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের জন্য সব কিছু করবো। এরপর সাভার স্মুতিসৌধের অসমাপ্ত কাজ আমি শেষ করেছলাম। শহীদ মিনারের অসমাপ্ত কাজ আমি শেষ করেছিলাম। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের কাজ করেছিলাম।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, জেলায় জেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জন্য জায়গা বরাদ্দ, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিমান, ট্রেনে বিমামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা করা, ৫১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া, মিরপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করা, ২২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান ১০১ টাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেয়া, মুক্তিযুদ্ধের দলিল বের করার কথা বলেন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘একটি দুঃখ, গণহত্যা দিবস ঘোষণা করতে পারিনি। আমার বিশ্বাস এই প্রস্তাব আমরা সবাই মিলে পাস করবো। এখানে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেন দিবসটি পালিত হয়, সে জন্য মামনীয় প্রধানমন্ত্রী কাজ করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান এরশাদ। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়। । তিনি সার্বজনীন। বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীন দেশ। যার জন্ম না হলে আমি সেনাবাহিনীর প্রধান হতে পারতাম না, রাষ্ট্রপতি হতে পারতাম না, এই সংসদে বক্তব্য দিতে পারতাম না।’

এরশাদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর আমি পাকিস্তানে বন্দী শিবিরে ছিলাম। বন্দীবিনিময় চুক্তির পর দেশে ফিরে আসতে পেরেছিলাম। আর আমিই প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেছিলাম। আমার দুঃখ বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক ঘোষণা করতে পারিনি। মন্ত্রিসভায় এই প্রস্তাব এনেছিলাম, কিন্তু কয়েকজনের বিরোধিতার জন্য পারিনি, সেই দুঃখ নিয়েই আমাকে মরতে হবে।’

Posted by Newsi24

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর



রে