ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭, ৯ চৈত্র ১৪২৩

মোদির বিজয়ে লাভবান হচ্ছেন শেখ হাসিনা!

মোদির বিজয়ে লাভবান হচ্ছেন শেখ হাসিনা!

ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপি সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের নির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। আর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন দলের এ বিজয়ের ফলে ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান আরও পাকাপোক্ত হলো।

এর আগে অনেকেই বিজেপি ও মোদির নেতিবাচক ভূমিকার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন নতুন করে প্রমাণিত হলো যে, নেতিবাচক সে দৃষ্টিতে বিজেপিকে দেখছে না ভারতের ভোটাররা। এতে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নয়া মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মোদি ভারতের দক্ষিণ ও উত্তর অঞ্চলের মধ্যে তার আবেদন প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। আর বিজেপি মনিপুর ও দেশটির অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও ক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে।


পশ্চিমবঙ্গে এখনও ক্ষমতাসীন তৃণমূলের প্রবল প্রভাব রয়েছে। কিন্তু বিজেপি এখানে ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ইসলামী কট্টরপন্থীদের সঙ্গে আঁতাত করছেন- প্রায়ই এমন অভিযোগ করছেন বিজেপির নেতারা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি ইসলামী সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। আর এটি শুধু অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের পার্লামেন্টেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি সারদা ও রোজ ভ্যালি কেলেঙ্কারির বিষয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মোদি সরকার। তৃণমূলের সুদিপ ব্যানার্জির মতো নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বর্তমানে জেলে রয়েছেন।
ভারতের রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজ্যের ভূমিকা যেমন রয়েছে তেমনি আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কখনো কখনো কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন রাজ্যের ওপর হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকে না। কিন্তু রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে এ সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মমতার দলের এই দুর্বল অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের ওপর বিজেপি সরকারের প্রভাব ক্রমে বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, মোদি মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিষয়ে চাপ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক বিষয়েও এ প্রভাব তৈরি হতে পারে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করার ক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে মোদির। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ওপরও চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে তার। আর এতে বাংলাদেশের সঙ্গে দুটি নদীর পানি বন্টনের আলোচনাও গতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বহুদিন ধরেই তিস্তা ও গঙ্গা ব্যারাজের মাধ্যমে পদ্মা নদীর পানি বন্টন আলোচনা এক্ষেত্রে নতুন করে এগোতে পারে।

জানা গেছে, তিস্তা চুক্তির বিষয়ে একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যেই তৈরি করেছেন ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞরা এবং এ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। তবে এ চুক্তির বিষয়ে বরাবরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরোধীতা রয়েছে।
বিজেপি নেতাদের মতে, মোদি সর্বদা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং তিনি চান না যে পানি বন্টন নিয়ে বিরোধের কারণে ঢাকা চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ুক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের নানা বিষয়ে খোঁজখবর রাখা ভারতীয় লেখক সুখরঞ্জন দাসগুপ্ত বলেন, ‘মনমোহন সিংয়ের নানা বিষয়ে সমালোচনা করেন তিনি (মোদি)। আর মোদি যে তা থেকে আলাদা, সেটি প্রমাণের এখনই সময়। ’

পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান ত্রিপুরার গভর্নর তথাগত রায়ও এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ’

তবুও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিরোধের কারণে বহুদিন ধরে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি আটকে আছে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলসূত্রে মোদির এমন ক্ষমতা বৃদ্ধি নতুন করে আশা যোগাচ্ছে এ বিরোধ দূর করার।
সম্প্রতি ভারতে এক জরিপ চালিয়েছে সিএসডিএস-হিন্দু। এতে ভারত কোন দেশকে বিশ্বাস করতে পারে তেমন একটি প্রশ্ন ছিল। এ প্রশ্নে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করা যায় বলে জানিয়েছে ৪৮ শতাংশ ব্যক্তি। অপরদিকে, বাংলাদেশের পরের অবস্থানেই রয়েছে রাশিয়া (৪৬%)। (সাউথ এশিয়ান মনিটর থেকে অনূদিত)

Posted by Newsi24

মতামত এর সর্বশেষ খবর



রে