ঢাকা, সোমবার, ২৯ মে ২০১৭, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগেই ঢাকা আসছে চীনের বিশেষ দূত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে আগামী ৭ এপ্রিল ভারত সফরে যাবেন। এ সফরে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানি বন্টন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ দুই ডজনের বেশি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
দু’বার পেছানোর পর ভারত সফরসূচী চুড়ান্ত হওয়ার পর কূটনৈকিরা এ সফরকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধণ শ্রিংলাও প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি এবং তাদের কাছ থেকে সাবমেরিন কেনার পর ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বিগ্ন ভারত। সেই উদ্বেগ দূর করতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তির তোড়জোড় করছে ভারত।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা খাতে চীন-বাংলাদেশ নৈকট্য বাড়ছে। আর এ কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে ভারত উঠেপড়ে লেগেছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরে আগের মতোই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম থাকলেও ভারত তার অঙ্গীকারের কথা বলে আসছে।
সর্বশেষ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর গত মাসে ঢাকা সফরে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দিল্লির ওপর আস্থা রাখার বার্তা দিয়ে গেছেন। ঢাকার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত হওয়ার যুক্তিও আছে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তারাই। কারণ এর আগে বেশ সময় নিয়ে হলেও ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির মতো আরও জটিল ইস্যুর সহজ বাস্তবায়ন করেছে এবং তা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হয়েছে।
তবে দিল্লি এবং ঢাকার মিডিয়ায় সম্প্রতি বলা হয়েছে আলোচনায় দু’দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে একটি চুক্তির বিষয় থাকতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তির ওপর পুনরায় জোর দেয়া হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সেই সাথে গঙ্গা ব্যারেজসহ দু’দেশের অমীমাংসিত সব বিষয় এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও থাকবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ঢাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিকে একমাত্র বিষয় বলে মনে করছে না। ভারত থেকে বয়ে আসা সব নদীর পানির ন্যায্যভাগই বাংলাদেশের কাম্য। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এদিকে বুধবার নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তিস্তা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরেই তা চূড়ান্ত হবে, তিস্তা চুক্তি হবে; এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই।
এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ এজেন্ডা নিয়ে আগামী সোমবার তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন চীনের এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সান গোসিয়াং। এ সফরের সময় চীনের বিশেষ দূত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সূত্রে জানাগেছে, চীনের বিশেষ দূত মায়ানমার ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা আসছেন।
তবে একাধিক কূটনৈতি সূত্রে জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে ঢাকা এসে চীনের বিশেষ দূত মূলতঃ বাংলাদেশের মনোভাব জানার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি গত অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের পর থেকে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের যে গতি শুরু হয়েছে তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেবেন। চীনের বিশেষ দূতের এ সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে কূটনৈতিকরা।

Posted by Newsi24

এ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

দেশ এর সর্বশেষ খবর



রে