ঢাকা, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

প্রবাসীরা স্বামী/স্ত্রী’কে আনতে পারবেন, লাগবে ১৮ হাজার ৬০০, দেখুন

ব্রিটেনে ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে বিবাহ সূত্রে স্বামী বা স্ত্রী আনতে ১৮ হাজার ৬০০ পাউন্ড আয় দেখাতে হবে এমন আইনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্ট হোম অফিসের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে স্পাউস ভিসায় ব্রিটেনে আসতে আবেদন করে রিফিউ হওয়া হাজার হাজার আবেদন প্রত্যাশিরা চরম হতাশ হয়েছেন।

২০১২ সালে হোম অফিসের জারি করা নতুন আইনের ফলে ৩০ হাজার আবেদন রিফিউজ হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫২টি আবেদন রিকন্সিডারেন্সের জন্য গৃহিত হয়। এর মধ্যে মাত্র ২৬টি মামলা সফল হয়।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে বিচারক এই মামলায় বাচ্চাদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট কিছু করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন। বিচারক এ ক্ষেত্রে বাচ্চার অধিকার রক্ষায় এডিশনাল কিছু করতে বলেছে। কোর্ট এক্ষেত্রে নিদিষ্ট কোন গাইডেন্স না দিলেও হোম অফিসকে এই আইনের সংশোধন আনতে হতে পারে এবং বাচ্চারদের জন্য অন্য কোন কোন ইনকাম সোর্স খুজতে বলা হতে পারে বলেন মনে করেন ইমিগ্রেশন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। বুধবার তিনি তার ফেইসবুকে এমন মন্তব্য করেন।

এদিকে অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ব্রিটেনের হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য কোনও দেশ থেকে স্বামী বা স্ত্রীকে ব্রিটেনে নিয়ে আসতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বছরে ১৮ হাজার ৬০০ পাউন্ডের বেশি আয় করতে হবে। ওই দম্পতির যদি এমন সন্তান থাকে যার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেই, তাহলে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ২২ হাজার ৪০০ পাউন্ড। পরবর্তী প্রতি সন্তানের জন্য বাড়তি দুই হাজার ৪০০ পাউন্ড করে যোগ হবে।

ইউরোপিয়ান ইকোনমিক এরিয়া (ইইএ)-ভুক্ত দেশগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে। তবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হবে। বিদেশি দম্পতিদের যুক্তরাজ্যের করদাতাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠা ঠেকাতে ২০১২ সালে এ নিয়ম চালু করা হয়। বুধবার এর আইনি বৈধতা দিলো যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট।

শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্যক্তিদের ওপরও সর্বনিম্ন এই আয়সীমা নির্ধারণের প্রভাব পড়বে।

সুপ্রিম কোর্টের সাত বিচারক সরকারের ২০১২ সালের ওই নির্দেশনাকে বৈধ বলে রায় দেন। একই সঙ্গে তারা এটাও স্বীকার করেন যে, এই নীতি যুক্তরাজ্যের বিপুল সংখ্যক পরিবারের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এ সংক্রান্ত নীতিতে সংশোধনী আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তারা।

সরকারের এ সংক্রান্ত নীতি আদালত বহাল রাখায় ঠিক কী পরিমাণ মানুষের ওপর এর প্রভাব পড়বে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে অনেক বাংলাদেশির ওপর এর প্রভাব পড়বে। তারাও যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য বছরে অন্তত ১৮ হাজার ৬০০ পাউন্ড আয়ের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়বেন।

ব্রিটিশ সরকারের এ নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একদল দম্পতি বিষয়টি নিয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিল। এর মধ্যে দু’জন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন, যারা পাকিস্তান থেকে তাদের দাম্পত্য সঙ্গীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে পারেননি।

এ দুই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হচ্ছেন আবদুল মাজিদ এবং শাবান জাভেদ। তারা একজন লেবানিজ শরণার্থীর সঙ্গে যোগ দেন যিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে ভালো চাকরি পাচ্ছিলেন না। দেশ থেকে নিজের স্ত্রীকেও যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে পারছিলেন না তিনি। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো থেকে আসা আরেক শরণার্থী। তার স্ত্রীর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র জানান, করদাতাদের ওপর বোঝা কমাতে পরিবারের অভিবাসী সদস্যদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসতে আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আদালত এ ব্যাপারে আমাদের পদ্ধতিকে সমর্থন জানিয়েছেন। অভিবাসী পরিবারগুলোকে তাদের কমিউনিটিতে সুসংহত হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এভাবে আয়সীমা নির্ধারণের ফলে ‘স্কাইপি পরিবার’ তৈরি হবে। একজন ব্যক্তি তার ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন।

‘ফ্যামিলি ফ্রেন্ডলি?’-শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্ধারিত আয়সীমা অনেক বেশি এবং এটা বৈষম্যমূলক। এর মধ্য দিয়ে যেসব ব্রিটিশ নাগরিক দেশের বাইরে বসবাস করেন, সেখানে কাজ করেন এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক তৈরি করেন, বিশেষভাবে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাদের জন্য যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: বিবিসি

Posted by Newsi24

এ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর



রে