ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০১৭, ৯ চৈত্র ১৪২৩

সৌদি আরবে প্রবাসী নিয়োগে নতুন আইন, নানা সুবিধা, দেখুন বিস্তারিত

দেশের প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার সৌদি আরব। দেশটির সরকার ঘন ঘন শ্রমআইন পাল্টাচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে গত এক বছরে দেশটির শ্রম আইনে ৬ বার সংশোধনী আনা হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশ থেকে নতুন যেসব কর্মী যাবেন, তাদের সর্বশেষ পরিবর্তিত শ্রম আইনের আলোকে যেতে হবে। এক্ষেত্রে কিছু সুবিধা যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি কিছু কঠোরতাও আরোপিত হবে নিরাপত্তার স্বার্থে।

অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার ধরে রাখতে হলে নিয়োগকারী দেশের আইন মেনেই কর্মী পাঠাতে হবে। সৌদি সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি করতে চাইলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঠিক তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি গেজেট বিভিন্ন নিয়মের কথা জানায়।

জানা গেছে, নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা হবে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪০ ঘণ্টা। এবার কর্মীদের সঠিক তথ্য ও যথাযথ কাগজপত্র প্রদানের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকেরই আঙুলের ছাপও লাগবে। এছাড়া কোনো অপরাধী যেন শ্রমিক হিসেবে যেতে না পারে সে বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোনো এজেন্সি কর্মী পাঠালে কর্মী প্রতি দৈনিক ১০০ রিয়েল জরিমানা করা হবে। এছাড়া এজেন্সির সঙ্গে দেশটির সরকারের চুক্তিতেও কিছু রদবদল আসছে। পাশাপাশি রি-এন্ট্রি ভিসার নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। দেশটির পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে আরব নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের কর্মঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৪০ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হচ্ছে কাজের সময়। সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিল এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি চেম্বারের শ্রমবাজার কমিটির প্রধান মুনসুর বিন আবদুল্লাহ আল শাতরির বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শ্রমঘণ্টা কমলেও সাপ্তাহিক বেতন আগের মতোই থাকবে বলে প্রবাসীদের প্রকৃত বেতন বাড়বে।


সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব আহমেদ আল-ফাইহাইদ জানান, সৌদি আরবে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শ্রমিকদের আঙুলের ছাপ নিশ্চিত করতে হবে। দেশে বা দেশের বাইরে নিরাপত্তা লঙ্ঘনজনিত কোনো অপরাধ বা অন্য কোনো গুরুতর অপরাধ তারা করেনি এবং তারা নিজেদের পরিচয় শনাক্তকারী কাগজপত্রে কোনো পরিবর্তন আনেনি এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এ ছাড়া রি-এন্ট্রি ভিসায় যেসব বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরব ছাড়ছেন কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সে দেশে ফিরতে পারছেন না, তাদের দেশটিতে পুনরায় প্রবেশ ৩ বছর নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

সৌদি শ্রম দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল সাদ জানান, রি-এন্ট্রি ভিসায় সৌদি ছাড়ার অর্থ হচ্ছে নিয়োগকর্তাদের ইচ্ছায় সাড়া দেওয়া যে, তারা আবার কাজে যোগ দেবেন; কিন্তু এই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনেকেই ফিরে আসেন না। সৌদি সরকারের বরাত দিয়ে আরব নিউজ জানায়, শ্রমবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে এই রি-এন্ট্রি ভিসার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এটি আবাসন আইনেরও একটি অংশ ছিল। এটি ব্যবহার করে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে গৃহকর্মী নিয়োগে আগ্রহী। দেশে এ নিয়ে নিবন্ধন চলছে, যদিও নারীকর্মীদের সাড়া মিলছে না। তবে নির্ধারিত সময় পার করে কোনো এজেন্সি কর্মী পাঠালে কর্মীপ্রতি দৈনিক ১০০ রিয়েল জরিমানা গুনতে হবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার টাকা। এই কর্মী নিয়োগের জন্য ১০০ এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এক বার্তায় সৌদির শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মনোনীত এজেন্সিগুলো গৃহকর্মী সরবরাহে বিলম্ব করলে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার রিয়েল বা ৬০ হাজার টাকাও হতে পারে।

সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়েছে, গৃহকর্মী নিয়োগে চুক্তিপত্রে সই করার সময় নিয়োগকারী এজেন্সিকে মোট খরচের ২৫ শতাংশ অগ্রিম প্রদান করতে হবে। অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করতে হবে পূর্ণ নিয়োগের সময়। আর শেষ পর্যন্ত যদি এজেন্সি কর্মী দিতে ব্যর্থ হয়, তবে ওই এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিপত্রও বাতিল হয়ে যাবে।
জানা গেছে, নিয়োগকর্তার কাছে গৃহকর্মী বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়। বলা হয়েছে, এজেন্সিকে নিয়োগকর্তার কাছে চুক্তির ৬০ দিনের মধ্যে গৃহকর্মী সরবরাহ করতে হবে। আর সেটি করতে ব্যর্থ হলে এজেন্সিকে দৈনিক ১০০ রিয়েল করে জরিমানা গুনতে হবে। আরও বলা হয়েছে, বেঁধে দেওয়া সময়ের পরও এজেন্সি যদি পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে গৃহকর্মী দিতে না পারে; তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তিপত্র বাতিল হবে। এক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার দেওয়া সব টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে এজেন্সি।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি জানান, দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উদ্যোগের সফলতা আসছে। সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে এ বছরই সৌদি আরবের শ্রমবাজারে গতি আসবে। তিনি বলেন, আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা গৃহকর্মীদের নাম নিবন্ধন করছি। সৌদি সরকার চাইলেই তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সে দেশে পাঠাতে পারব। দেশটির চাহিদার আলোকেই আমাদের প্রস্তুতি। তিনি যোগ করেন, গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নেই। তারা যে সংখ্যক কর্মী চাইবেন, আমরা তা সরবরাহ করতে পারব।

Posted by Newsi24

এ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর



রে