ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

অর্ধেক ওজন কমলো সেই ৫০০ কেজি নারীর

অস্ত্রপচারের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মিশরীয় নারীর ওজন '২৫০ কেজি' কমিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের একটি হাসাপাতাল।

ইমান আব্দ এল আতি নামের এই মিশরীয় নারীর পরিবার বলছে তার ওজন ৫০০ কেজি, ফলে সে বিগত ২৫ বছর ধরে ঘর থেকেই বের হতে পারে না।

দুইমাস আগে আতিকে মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালে অস্ত্রপচার (বারিয়াট্রিক সার্জারী)-এর জন্য ভর্তি করা হয়। ডা: মুফাজ্জল লাকদাওয়ালার নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক অস্ত্রপচার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

ডা: লাকদাওয়ালা বলেন, 'এরইমধ্যে বেশ দ্রুত হারে আতি'র ওজন কমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে শৈশবে একটি স্ট্রোক হবার কারণে তার শরীরের অর্ধেকটা এখনো প্যারালাইজড। ফলে পেশীর সংকোচন জনিত ঝামেলার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে কিছুটা।'

অতিরিক্ত ওজনের কারণে ইমান আবদ আল আতি নানারকম অসুখে ভুগছিলেন। ৫০০ কেজি ওজনের এই নারী হাঁটাচলা তো দূরের কথা, নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না। ৩৬ বছর বয়সী এই নারীর অবস্থা যখন আশঙ্কাজনক তখন তিনি ভারতের মুম্বাইয়ে অস্ত্রপচার করাতে আসেন।

সাইফি হাসপাতালে ভর্তি হবার পর ইমান আব্দ এল আতি

ফেব্রুয়ারীর শেষের দিকে মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন আতি। ভারতের সইফি হাসপাতাল কতৃপক্ষ তাকেকে মিসর থেকে মুম্বাই আনার সমস্ত ব্যবস্থা করেন। তাকে প্রথমে আনা হয় একটি বিশেষ মালবাহী বিমানে। বিমান থেকে ক্রেনে করে নামিয়ে তোলা হয় এক বিশেষ ট্রাকে। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাই এর চার্নি রোডের সাইফি হাসপতালে।

হাসপাতালের দোতলায় ইমানের জন্য তৈরি বিশেষ খাটে শোয়ানোও হয় ক্রেনে করে।

জন্মের সময় ইমানের ওজন ছিল ৫ কেজি। খাওয়া-দাওয়া, জামা-কাপড় বদলানোসহ সমস্ত দৈনন্দিন কাজের জন্যই ইমানকে তার মা ও বোনের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এলিফ্যান্টিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই সারা শরীর ফুলতে শুরু করে তার। ১১ বছর বয়স থেকেই বেশি ওজনের কারণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না মিশরীয় এই নারী। বাড়িতে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতে হত। এরপর ব্রেনস্ট্রোকের কারণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। স্কুলেও যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই আর বিছানা ছাড়তে পারেননি তিনি।

Posted by Newsi24

বিদেশ এর সর্বশেষ খবর



রে