ঢাকা, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৩ বৈশাখ ১৪২৪

অকস্মাৎ ভাবি- কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে নাতো!

খুজিস্তা নূর ই নাহারিন (মুন্নি)
আজ আমার প্রিয় ছোট বোন কাম বান্ধবী রুনার ইনবক্সে একজন মৌলানা সাহেবের ওয়াজ পাঠিয়েছে। মৌলানা সাহেব বলছেন, ‘মৃত্যুর পর চল্লিশা কিংবা অন্য যে কোন খাওয়ার অনুষ্ঠান করলে মৃত ব্যক্তির কবরে আজাব হয়।’

কিন্তু আমি এর পেছনে কোন যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। কারণ মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার পূর্ব শর্ত হচ্ছে খাওয়া। আর ক্ষুধার কষ্ট সকল কষ্টের অন্যতম। অভুক্ত, অনাহারী মানুষদের জন্য পেট পুরে সুস্বাদু খাবার খেতে পাওয়া আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের শ্রেষ্ঠ নেয়ামতগুলোর একটি বলে মনে করি। সরাসরি রূহ বা আত্মার দোয়া পাওয়া যায়। যাদের সক্ষমতা আছে অবশ্যই উচিত অন্য সময়ও দরিদ্রদের সাহায্য করা। কেবল খাদ্যেই নয়, অসুস্থতা, শিক্ষা, বিয়ে এবং সামাজিকতায়ও।

তিনি আরও বলেছেন, পিতৃকুলের জন্য করলে পিতা এবং মাতৃকুলের জন্য করলে মাতা সওয়াবের ভাগীদার হবে। কিন্তু ইসলাম বলে, ‘কে আপন কে বা পর, ধনী নাকি দরিদ্র মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ নাই, সকলে সমান।’ সাহায্য প্রার্থী বিধর্মী হলেও তাঁকে সাহায্য করতে হবে।

আমি শুনেছি মুসলমানদের মৃত্যুর পর কবরে কোন চিহ্ন রাখতে নেই। ব্যাখ্যা হলো মৃত্যুর পর এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে মিশে যাওয়া। শূন্য থেকে এসেছ তাই পুনরায় শূন্যে মিশে যাওয়া। অর্থাৎ আল্লাহ্‌র ধন আল্লাহ্‌র কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। সৌদি আরব সহ অনেক মুসলিম দেশে কবর বাঁধানোর নিয়ম নেই। সেই বিবেচনায় আমি আমার প্রিয় সব মৃত মানুষদের কবর ইট কিংবা পাঁথরের খাঁচা বদ্ধ করতে রাজী হইনি।

আমার যখনই মন খারাপ হয় আমার সামর্থ্যের ভেতর অন্যদের সাহায্য করতে পারলে মন ভালো হয়ে যায় বলে দেখেছি। প্রতিদিন চেষ্টা করি অন্তত একটি ভাল কাজ করতে, যাতে করে কখনো মনের অসুখ না হয়, মন পবিত্র থাকে। বিশ্বাস না হলে চেষ্টা করে দেখুন, অশান্তি, কষ্ট, দুঃখ আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। প্রতি রাতে চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে ঘুমের রাজ্যে স্বাগতম। কারণ আপনি সব দায়ভার তাঁর উপর (মহান আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন) ছেড়ে দিয়েছেন।

অনেকে বলে তুমি একসাথে এতো কাজ কি করে করো! আমি বলি, হিংসা, লোভ, গীবত, অন্যায় আর অবিশ্বাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারলে সময়ের অভাব হয় না।

আজকের আমি আমার পূর্ব পুরুষদের কাছে ঋণী । দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ‘আমার রূপ, মেধা, মনুষ্যত্ব সবকিছুই তাঁদের ভালো কর্মের ফলাফল, তাঁদের জীনের মাধ্যমেই আমার আজকের এই বহিঃপ্রকাশ।’ সর্বান্তকরণে তাঁদের জন্য দোয়া করি প্রতিটি নামাজে প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে। প্রতিটি মুহূর্তে তাঁদের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করি। কায়মনোবাক্যে চেষ্টা করি তাঁদের প্রদেয় সম্পদ (মেধা, যোগ্যতা) যেন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহৃত হয়। যেন কারো অনিষ্ট বা ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

কেবল পিতৃ কিংবা মাতৃ কুলই নয়, আমার জীবনে যত শিক্ষা গুরু, যাদের কাছ থেকে আমি শিখেছি, দীক্ষা নিয়েছি এ ছাড়াও যাদের স্নেহ, ভালবাসায় আমি আত্ম প্রত্যয়ী হয়েছি তাঁদের কাছেও দায়বদ্ধতা আমার।

আমার প্রিয়তম কাছের মানুষটিও আজ এই পৃথিবীতে নেই। সৃষ্টির অমোঘ নিয়মে তাঁকে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়েছে । তাঁর কাছেও শিখেছি অনেক। তাঁর কাছেও ঋণ আমার।

একে একে অনেকেই চলে যাচ্ছে। আমাকেও একদিন যেতে হবে নিশ্চিত। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি কেবলই কালক্ষেপণ কেবলই সময়ের সাথে বয়ে চলা কেবলই অভিজ্ঞতা। অকস্মাৎ ভাবি- কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে নাতো!
-লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম

Posted by Newsi24

মতামত এর সর্বশেষ খবর



রে