ঢাকা, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামী নাঈমের বান্ধবীর সংখ্যা শুনে অবাক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা!

রাজধানীতে হোটেলে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। রিমান্ডের প্রথম দিনে মামলার অন্যতম আসামী নাঈম আশরাফের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায় রিমান্ডের প্রথম রাতেই জিজ্ঞাসাবাদে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে নাঈম আশরাফ। গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তার বান্ধবীর সংখ্যা কত এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঈম আশরাফ ২ শতাধিক বান্ধবীর কথা উল্লেখ করেছেন। আর নাঈমের এত বান্ধবীর সংখ্যা শুনে কিছুটা অবাকই হয়েছেন গোয়েন্দা কর্তারা।

নাঈম আশরাফের (মো. আব্দুল হালিম) বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার অন্যতম আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের পুত্র সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমানকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সাফাতের গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীও রিমান্ডে রয়েছে।

এরই মধ্যে সেদিন রাতে ধর্ষণের অভিযোগ আনা মেয়ে দুটির কিছু অশ্লীল ছবি ফাঁস হয়ে গেছে। ছবিগুলো দেশের একটি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। সামাজিকভাবে হেয় করতে মেয়ে দুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে কেউ কেউ। ছবিগুলোতে ধর্ষক সাফাতের সঙ্গে বেশ অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর ছবিও রয়েছে।

গত বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর নবাবপুর রোডের ইব্রাহীম হোটেল থেকে সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লালকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০ এবং গুলশান থেকে তার দেহরক্ষী আযাদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

তারও আগে চলতি মাসের ১১ তারিখে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয় প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ এবং সাদমান সাকিফকে।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের হালিম ঢাকায় নাঈম আশরাফ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর প্রকাশ পায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, আজ রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দল ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে নাঈম আশরাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এখন ঢাকায় আনা হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার এই মামলার আরও দুই আসামি আপন জুয়েলার্সের মা লিকের ছেলে সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল ও তার দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নবাবপুর রোডের ইব্রাহীম হোটেল থেকে বিল্লালকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১০। এছাড়া গুলশান থেকে সাফাতের দেহরক্ষী আযাদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গত ৬ মে এক তরুণী মামলা করার পাঁচদিন পর ১১ মে রাতে সিলেট থেকে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরই মধ্যে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এ নিয়ে মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে সবাইকে গ্রেপ্তার করল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে গণমাধ্যমে নাঈমের ছবি দেখে তাকে হালিম বলে শনাক্ত করেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের গাইন্দাইল গ্রামের বাসিন্দারা। হালিম ওই গ্রামের ফেরিওয়ালা আজমদাজ হোসেনের ছেলে। এলাকায় প্রতারক হিসেবে তার পরিচয় ছিল।

গ্রামবাসী ভাষ্য, হালিম প্রভাবশালী বিভিন্ন জনকে তার বাবা পরিচয় দিয়ে নানা সুবিধা আদায় এমনকি বিয়েও করেছিল দুই বার।

ঢাকায় এসে নাঈম আশরাফ নাম নিয়ে ‘ই-মেকার্স’ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ২০১৪ সালে ভারতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি।

২০১৬ সালে ঢাকায় ভারতের আরেক শিল্পী নেহা কাক্কারকে নিয়ে ‘নেহা কাক্কার লাইভ ইন কনসার্ট’ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেন নাঈম বা হালিম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাঈম বিভিন্ন জনের সঙ্গে নিজের সেলফি দিতেন, যা সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত বলে এখন মনে করছেন ওই ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা।

নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পরিচয় দিয়ে হালিম এলাকায় পোস্টার-ব্যানারও লাগাতেন; যদিও সংগঠনে তার কোনো পদ ছিল না বলে জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের কাজীপুরের নেতারা।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতের সঙ্গে নাঈমের নিবিড় ঘনিষ্ঠতার কথা সাফাতের সাবেক স্ত্রী ফারাহ মাহবুব পিয়াসাও জানিয়েছেন।

গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার ৪০ দিন পর গত ৬ মে এক তরুণী বনানী থানায় একটি মামলা করেন।

বনানীর ‘দ্যা রেইন ট্রি’ হোটেলের জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ করে ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬ মে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এতে পাঁচ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টার দিকে রেইনট্রি হোটেলে আহমেদ শাফাতের জন্মদিনের নিমন্ত্রণে যান ওই দুই তরুণী। মধ্যরাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শাফাত ও নাঈম হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাদের ধর্ষণ করে। সাদমান সাকিফ, বিল্লাল ও আজাদ ধর্ষণে সহায়তা করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মে এই মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার (১৫ মে) সন্ধ্যার পর রাজধানীর নবাবপুর ও গুলশান থেকে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী ওরফে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Posted by Newsi24

এ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত

দেশ এর সর্বশেষ খবর



রে