ঢাকা, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪

আগামী নির্বাচন উপলক্ষে যেসব প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি

টানা ১১ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই দলের সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিএনপি। একদিকে নির্বাচনে দলের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সব দলের অংশগ্রহণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলা—উভয় দিকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। দলটির নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজের সঙ্গে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল এবং শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি

সূত্রগুলো জানায়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই দলের সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’ ও সংগঠন পুনর্গঠনে ৫১ টি কমিটি গঠন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রার্থী বাছাই-প্রক্রিয়া। সারাদেশে সংগঠন পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব-কোন্দল সামনে এলেও নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেকটাই নির্ভার বিএনপি। দলটির শীর্ষনেতারা মনে করছেন, নিজেদের লোকজনদের দিয়ে জরিপ করে তারা ইতোমধ্যেই ধারণা পেয়েছে, প্রার্থী যাই-ই হোক, সারাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। তবে তাদের ভোটগুলো তুলে আনতে হবে বিএনপিকে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিএনপির নিজস্ব কৌশল আছে। এক্ষেত্রে জরিপ করা হয়েছে। দলের একটি টিম কাজ করছে। তবে কী ধরনের টিম কাজ করছে, এ নিয়ে কোনও তথ্য সূত্র জানাতে পারেনি।

যদিও স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, ইতোমধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। জরিপের ফল নিয়ে তারা আশাবাদী। নিজেদের ঘরানার প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই জরিপটি এ বছরেই করা হয়েছে বলে জানান এই সদস্য।

নির্বাচনি প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ভোটার তালিকা তৈরি। নির্বাচন কমিশনের তালিকা ধরে নিজেদের সম্ভাব্য ভোটার লিস্ট নিয়ে কাজ শুরু করবে বিএনপি। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনকালীন দায়িত্বপালন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী বছর নাগাদ এই প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করবে বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘স্থায়ী কমিটিই দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করে। এ কারণে সব তথ্য, জনমত হাতে এলে স্থায়ী কমিটিই সিদ্ধান্ত নেবে কারা মনোনয়ন পাবেন।’

এ ব্যাপারে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘প্রার্থী বাছাই করা হয় কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করে। এক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রস্তাব, অভিমত, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিবেচনা করা হয়।’

চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, বিগত ১১ বছরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গুম হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে আচরণ, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক—ইত্যাদি কার্যক্রমও বিবেচনায় থাকবে।

ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু

ইতোমধ্যে ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে বিএনপি। এই ভিশনকে কেন্দ্রে রেখে আগামি নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কাজের তত্ত্বাবধান করছেন। এছাড়া দলের বিভাগভিত্তিক এক্সপার্টরা ইশতেহারের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সাবেক আমলা, সচিব, সাবেক সেনা-নৌ-বিমান,পুলিশের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা দিয়ে ইশতেহার তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’, গত কাউন্সিলে দলের চেয়ারপারসনের বক্তব্য ও বিগত বছরগুলোয় করা ইশতেহারের সমন্বয়েই হবে আগামী ইশতেহার।’

ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘সময় ও যুগের চাহিদা ও বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে সামনে রেখে, দেশীয় অর্থনীতি, শিক্ষা, যোগাযোগ—সব মিলিয়ে দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই ইশতেহারে থাকবে। বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন, এরপর দলীয় সর্বোচ্চ ফোরাম এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীনজোটের বাইরে থাকা দলগুলোকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। আগামী রোজার ঈদের পর ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির দিকেও যেতে আগ্রহী দলের হাইকমান্ড। এ নিয়ে ‘ঈদের পর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পরিকল্পনা বিএনপির’ শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি—এমন দলগুলোয় বিএনপির টার্গেট। এক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী ঘরানা ও বামপন্থী কিছু দলকেও মাঠে নামাতে চায় অন্তত একটি ইস্যুতে। ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের’ দাবিকেই এক্ষেত্রে মূলকেন্দ্র করতে চায় বিএনপি।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে সব সময়ই সংবিধান অনযায়ী নির্বাচন হবে—এমন বক্তব্য দেওয়া হলেও বিএনপি চায়, সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই থেকেই নির্বাচন হোক। এক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষকে টার্গেট না করে সংবিধানের বৃত্তের মধ্যেই সমাধান খুঁজতে আগ্রহী দলটির শীর্ষনেতারা। এ কারণে অন্য দলগুলোও অন্তত স্বচ্ছ নির্বাচন চাইতে কর্মসূচিতে নামতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে কথা হয়েছে, কথা আরও হবে। ঈদের পর নিশ্চয় নির্বাচনের দাবিকে সামনে আনা হবে।’

Posted by Newsi24

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর



রে